সাভারের বলিয়ারপুর এলাকার ওপর দিয়ে ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদসভা করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়াপুর বাসস্ট্যান্ডের ঢাকাগামী সার্ভিস লেনে ট্রাক দিয়ে বেড়িকেড দিয়ে সেখানে স্টেজ বানিয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদসভা শেষে উপস্থিত গ্রামবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বলিয়াপুর বাসস্ট্যান্ডের উভয়পাশ প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
এর আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনটি প্রায় ১৫ মিনিট অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ওই সড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে গ্রামবাসীরা অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে হাজার বছরের বাপ-দাদার ভিটা, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ রক্ষায় নিজেদের শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গ্রামবাসীরা। এ সময় প্রতিবাদ সমাবেশে নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বৃন্ধ সব বয়সের মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাজার বছরের বাপ-দাদার বসতভিটা, মসজিদ, মন্দির, উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ছেড়ে আমরা কোথাও যাবো না। প্রয়োজনে শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এই ভিটেমাটি রক্ষা করবো।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টার্নিং পয়েন্টের জন্য বলিয়ারপুর গ্রামের বসবাসরত সকল বাড়ি-ঘর অধিগ্রহণ করার জন্য ভূমি মালিকদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারই প্রতিবাদে নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার জন্য এলাকার সর্বস্তরের জনতা একত্রিত হয়েছেন এবং যে কোনো মূল্যে গ্রাম ধ্বংস করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবাদসহ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আলামিন মেম্বার বলেন, আমাদের বলিয়াপুর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এখানে মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। ঢাকা এলিভেটেড ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ের যে ডিজাইন করা হয়েছে এটি বাস্তবায়ন হলে এই এলাকায় কোনো বাড়িঘর থাকবে না। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারাবে। তাই যে কোনো মূল্যে গ্রাম ধ্বংসকারী এই প্রকল্প সরকারকে বাতিল করতে হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী মো: আবু সাঈদ বলেন, আমাদের গ্রামটি হাজার বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে চলেছে। আমরা ঢাকা এলিভেটেড ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিরুদ্ধে না। আমরাও চাই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখুক। কিন্তু সেটি গ্রাম ধ্বংস করে করে নয়। বর্তমান ডিজাইনে যেভাবে রয়েছে তার থেকে আধাঁ কিলোমিটার পূর্বদিকে সরিয়ে নিলে আমাদের গ্রামটি রক্ষা পাবে। তাই ডিজাইনটি সংশোধন করে গ্রাম ধংস না করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা সিটি করপোরেশনের ডাম্পিংয়ের জন্য জায়গা দিয়েছি, মেট্রোরেলের জন্য জায়গা দিয়েছি, এখন আবার ঢাকা এলিভেটেড ইস্ট-ওয়েস্ট এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য আমাদের গ্রাম অধিগ্রহনের নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমাদের কৃষি জমি, আবাদি জমি সব দিয়েছি সরকারী প্রকল্পের জন্য। এখন যদি আমাদের ভিটেমাটিও নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে আমরা যাবো কোথায়? তাই যে কোনো মূল্যে নিজেদের জীবন দিয়ে হলেও আমরা গ্রামকে রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাবো।



