পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী মন্দির কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রতি বছরের মতো এবারো পিঠা উৎসব করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে এ ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
বাৎসরিক এ চিতই পিঠা উৎসবে বিশাল আকৃতির বটগাছের নিচে মাঘের অমাবস্যা তিথিতে মাটির তৈরী নতুন ১০৮টি চুলায় ও বিশাল আকৃতির দাঁড়ানো একটি বট গাছের মধ্যভাগে বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে সেখানে বসে একটি চুলায় মোট ১০৯টি চুলায় একত্রে শুরু হয় চিতই পিঠা ভাজা।
উৎসবটি শুরু হয় সন্ধ্যায় আর শেষ হয় গভীর রাতে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে পিরোজপুর জেলাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ, ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যায় এ উৎসবকে ঘিরে। উৎসবটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে হলেও স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মাম্বলীরা এ পিঠা উৎসবকে উপভোগ করতে আসেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি অমৃত লাল দাস জানান, প্রায় শত বছরের বেশি সময় ধরে এ চিতই পিঠা উৎসব হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মাঘের অমাবস্যা তিথিতে মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মন্দিরের ভক্তসহ বিভিন্ন লোকজন এখানে আসেন।
মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী জানান, প্রায় শত বছরের অধিক সময় আগে তার পূর্ব পুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী ওই উৎসবের আয়োজন করেন। উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা যোগ দেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি।



