বরগুনার আমতলীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাত ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে অপর চাচাত ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ঘাতককে আটক করেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম জহিরুল সিকদার (৪০)। তিনি উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত ঘাতক একই গ্রামের মুনসুর সিকদার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের সাথে তার চাচাত ভাই মুনসুর সিকদারের প্রায় ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মুনসুর সিকদার। একপর্যায়ে তিনি একটি ছুরি নিয়ে ফরিদ সিকদারকে ধাওয়া করেন। এ সময় ফরিদ সিকদার প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মুনসুর তাকে লক্ষ্য করে ছুরি নিক্ষেপ করে। ছুরিটি ফরিদের পায়ে বিদ্ধ হলে তিনি চিৎকার শুরু করেন।
তার চিৎকার শুনে চাচাত ভাই জহিরুল সিকদার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত মুনসুর সিকদার একপর্যায়ে জহিরুল সিকদারের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জহিরুল সিকদারকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা: রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘নিহত জহিরুল সিকদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
আহত ফরিদ সিকদারের ছেলে সজিব সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘জমি নিয়ে মুনসুর সিকদারের ছেলে জাকির সিকদার দীর্ঘদিন ধরে বংশের সবার সাথে ঝামেলা করে আসছে। তার উসকানিতেই আজ আমার বাবার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার চাচা জহিরুল সিকদার প্রাণ হারান।’
খবর পেয়ে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ঘাতক মুনসুর সিকদারকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী সার্কেল) মো: তারিকুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



