বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের জন্য গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট উপেক্ষা করা মানে জাতির সঙ্গে তামাশা করা। গণভোটই বর্তমান সরকারকে একটি শক্ত আইনি ভিত্তি দিতে পারে।
রোববার (৮ মার্চ) সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা তোফায়েল আহম্মেদ খাঁনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নুরুল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ৩৩টি রাজনৈতিক দল একসঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব পাস করেছে। রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণভোটের প্রস্তাবও পাস হয়। তবে বর্তমানে গণভোট নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “গণভোট না মানা মানে জাতির সঙ্গে তামাশা করা। এ জাতি আর ফ্যাসিবাদ দেখতে চায় না। দেশে দলীয়করণ শুরু হয়েছে। আমরা ইনসাফ চাই, কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আরোএকটি ‘জুলাই আন্দোলন’ সংঘটিত হবে।”
ডেপুটি স্পিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেয়ার কথা বললেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া এই নিয়োগ ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিএনপিকেই পরিষ্কার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, “সরকারের ভালো কাজকে আমরা সহযোগিতা করব। তবে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা হলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসেই মানবজাতির জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। মানুষের মাঝে তাকওয়ার অভাবের কারণেই বিশ্বে সহিংসতা বাড়ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার সমালোচনা করে বলেন, এতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরো বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এ আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং প্রায় ৩২ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু অনিয়ম থাকলেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এক দল বিজয়ী হয়েছে, অন্য দল ভবিষ্যতে বিজয়ী হবে। তবে বর্তমান সরকারকে অবশ্যই ‘জুলাই সনদ’-এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে, নচেৎ সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শামস উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ, নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ, খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাজাউর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আক্তার হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সমাজসেবক দেয়ান গণিউল সালাদীন এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফারহান শাহরিয়ার ফাহিম।



