রাজধানী উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়িতে। মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন নিহতদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় যেন তারা কথা বলাই ভুলে গেছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সকাল ১১টায় চিওড়া কাজী বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামী, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
মাঝখানে স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭), আর এক পাশে স্বামী কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮) আরেক পাশে তাদের দুই বছরের সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশানকে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতের ফুপাতো ভাই কাজী নাহিদ জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিওড়া ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়িতে ফজলে রাব্বির জন্ম। কুমিল্লা শহরেও তাদের বাড়ি রয়েছে। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান।
তিনি আরো জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরাতেই নানির বাসায় থাকতো। শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় আগের রাতেই ছোট ছেলেকে নানির বাসা থেকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন বাবা ফজলে রাব্বি। এরপর শুক্রবার সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। পরে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
নিহত আফরোজার বোন আফরিন জাহান জানান, তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের বাকি দুজনের লাশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সবাই ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তাদের শরীর দগ্ধ হয়নি। শরীরে কোনো পোড়া ক্ষত নেই।
ফুফাতো ভাই কাজী শহীদ জানান, ‘গত দুই মাস আগে ফজলে রাব্বি স্ত্রী-সন্তানদেরকে নিয়ে বাড়ি এসেছেন। দুদিন থেকে কর্মজীবন ঢাকার উদ্দেশে চলে যান। আজ স্বামী-স্ত্রী-সন্তান লাশের গাড়িতে করে বাড়িতে অবস্থান করছে। ভাবতে খুব খারাপ লাগছে এভাবে একসাথে তিনজনের মৃত্যু হবে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।’
এদিকে, ঢাকায় জানাজা শেষে তিনজনের লাশ শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা শহরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রাত ১০টায় দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকালে চিওড়াতে তৃতীয় জানাজা শেষে দাফন কাজ সম্পূর্ণ হয়।



