পার্বত্য বাঙালিদের আয়কর মওকুফের দাবি পিসিএনপির

খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের আয়কর মওকুফ করার প্রস্তাব তিন পার্বত্য জেলার ৫৪ শতাংশ বাঙালির প্রতি বৈষম্যের শামিল।

রফিকুল ইসলাম রকি, খাগড়াছড়ি

Location :

Khagrachhari
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন পিসিএনপির জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মজিদ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন পিসিএনপির জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মজিদ |নয়া দিগন্ত

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য বাঙালিদের আয়কর মওকুফ এবং বাজারফান্ড এলাকায় বন্ধ রাখা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের আয়কর মওকুফ করার প্রস্তাব তিন পার্বত্য জেলার ৫৪ শতাংশ বাঙালির প্রতি বৈষম্যের শামিল।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো: আবদুল মজিদ বলেন, ‘ব্যবসা, শিক্ষা, চাকরি ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রেই পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা চরম বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার সিংহভাগ সুযোগ-সুবিধা উপজাতিরা একচেটিয়াভাবে ভোগ করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশের চাকরিতে উপজাতি কোটা, পার্বত্য তিন জেলার সরকারি চাকরিতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ নিয়োগ, দেশী-বিদেশী এনজিওর বিপুল অনুদান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশেষ বরাদ্দ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন ফান্ডিংয়ের সুবিধা কেবল তারাই পাচ্ছে। আবার করমুক্ত সুবিধার কারণে উপজাতি ব্যবসায়ীরা ঠিকাদারি লাইসেন্সের ব্যবসা করে ঘরে বসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার উপজাতিরা সর্বদা তাদের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ কিংবা কেএনএফের নির্দেশিত পথে চলেছে। উপজাতিরা কখনোই জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে মন থেকে সমর্থন করেনি। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনে ৫৪ শতাংশ বাঙালির সর্বোচ্চ ভোটেই নির্বাচিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।’

ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মজিদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাহাড় ও সমতলের সব উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আয়কর মওকুফ প্রস্তাব পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালির প্রতি চরম বৈষম্য। তিন পার্বত্য জেলার উপজাতিরা এ আয়কর অব্যাহতির সুবিধা গত তিন দশক ধরেই ভোগ করে আসছিলেন।’

এসময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো একজন এমপি বা মন্ত্রী এক মিনিটের জন্যও এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী বাঙালিদের দুঃখ-দুর্দশার কথা সংসদে তোলেননি, এমনকি কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেননি।’

তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর কাছে গত ২১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুইজন উপজাতি সংসদ সদস্য, একজন সংরক্ষিত নারী উপজাতি সদস্য ও একজন বাঙালি সংসদ সদস্যসহ মোট চারজন সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে বৈষম্যমূলক মানসিকতা, ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি ও রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘চিঠির মূল উদ্দেশ্য ছিল আয়কর আইন ২০২৩-এর ৬ষ্ঠ তফসিলের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে উপজাতিদের জন্য পূর্বের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখা। এ চিঠিতে বাঙালিদের পাশ কাটিয়ে একচেটিয়াভাবে শুধু উপজাতিদের আয়কর মওকুফ করার সুপারিশ চরম পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের শামিল।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের অলিখিত দ্বন্দ্বে অকার্যকর হয়ে পড়েছে বাজারফান্ড সংস্থা। পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির অধীনে দীর্ঘ ১৫০ বছর যাবৎ জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেয়ার ধারাবাহিকতা চলে আসলেও, হঠাৎ করে ঠুনকো অজুহাতে এ ঋণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তিন পার্বত্য জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা থমকে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার বাজারফান্ড এলাকার লাখ লাখ বাসিন্দা।

সম্মেলনে আবদুল মজিদ পার্বত্য জেলাগুলোর বাঙালিদের জন্য আয়কর মওকুফের সুপারিশসহ বাজারফান্ড এলাকায় বন্ধ রাখা ব্যাংক লোন আবারো চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, পূর্বে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে বাজারফান্ড প্রশাসক কর্তৃক বাজারফান্ডের জায়গার বিপরীতে ব্যাংক ঋণের অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন লোন পেয়ে আসছিলেন। পার্বত্য চুক্তির পরও এ ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে অলিখিতভাবে বাজারফান্ডের জায়গায় ব্যাংক ঋণ বন্ধ করে দেন তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকরা।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের জেলা সভাপতি জালাল আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা সভাপতি তরিকুল ইসলাম রায়হান, সরকারি কলেজ সভাপতি মাকসুদুল আলম, সাবেক জেলা সভাপতি সুমন আহমেদ, পিসিএনপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এরশাদ হোসেন, শাহাদাত হোসন, রবিউল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।