আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ৪১, বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রশাসনে রদবদল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।
এর ফলে বহুল বিতর্কিত মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনের মতো ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ আশঙ্কা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থী অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পরেই বর্তমান সরকার বগুড়ার প্রশাসনে নগ্ন হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সাথে সাথে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকরি নির্বাচন কমিশনের অধিনে চলে যায়। নির্বাচন কমিশনের আদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলি বা নতুন পদায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি যে, নির্বাচন কমিশননের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিগত ৪ মার্চ ’২৫ পত্রের মাধ্যমে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারকে অন্যত্র বদলি করেছে।
এরপর আরো জানতে পারলাম দুইজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি আমরা জানতে পারলাম বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলি করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে পত্রের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চাহিদা ছাড়াই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রদ-বদল করছে। এতে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, সরকার সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছে। আমাদের প্রশ্ন-আসন্ন উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের অধিনে হচ্ছে নাকি সরকারের মর্জিমতো হচ্ছে? এ ধরনের বদলির মাধ্যমে প্রশাসনের সকল স্তরে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না বলে আমরা মনে করছি।’
জামায়াত প্রার্থী আরো বলেন, ‘আমরা জানি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় সরকারের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোনো ব্যক্তি কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না। কিন্তু আমরা লক্ষ করলাম বিগত ইং ৮ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার নাজ গার্ডেনে জেলা বিএনপির দলীয় অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাইলেন। আমরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের সাথে সাক্ষাত করে উল্লেখিত বিষয়গুলো মৌখিকভাবে জানালেও তিনি এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এভাবে যদি আইন লঙ্ঘন করা হয় তাহলে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয় যে, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন আবারো ২য় মাগুরা উপনির্বাচনের মতো নির্বাচন হবে কি না? আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিকট আমরা কিছু দাবি জানাচ্ছি তা হলো, অনতিবিলম্বে সকল প্রকার বদলি বাতিল করে প্রশাসনের ভীতি দূর করে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিয়োগপ্রাপ্ত ভোট কর্মকর্তাদের মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের সুস্পষ্ট অভিযোগ আছে। তাদেরকে পুনরায় উপনির্বাচনে নিয়োগ না করে বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষ নতুন সরকারি অফিসার নিয়োগ প্রদান, অনতিবিলম্বে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরন, ভয়ভীতি, কালো টাকার দৌরাত্ম, পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ করা। প্রশাসনে সরকারের প্রভাব বিস্তার বন্ধ. নির্বাচনী আচরণবিধি কেউ লঙ্ঘন করলে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গত নির্বাচনে বিএনপির নিয়োগকৃত পোলিং অ্যাজেন্টদের বাতিল করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক, জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, বিগত নির্বাচনে বগুড়া-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, জামায়াত নেতা সেলিম রেজা, ড. হেদাইতুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম তুহিন, শাহীন মিয়া, ইকবাল হোসেন, আজগর আলী প্রমুখ।



