পিরোজপুরে জিয়ানগরে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সাহসিকতার নজির স্থাপন করায় ‘কন্যা সাহসিকতা’ সম্মাননা দেয়া হয়েছে তহমিনা আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাইদ তার কার্যালয়ে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তাহমিনা আক্তারের হাতে। পাশাপাশি সনদপত্র এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহমিনার মা-বাবা।
জানা যায়, তহমিনার মা-বাবা তার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করলে সে তাতে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানায়। পরিবারের চাপ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গত শনিবার সে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দ্রুত উদ্যোগ নেয়। তাদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয় এবং তহমিনার মা-বাবার কাছ থেকে এ ধরনের কাজ পুনরায় না করার বিষয়ে মুচলেকা নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে ও জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার তার পরিবারের চাপের মুখেও বাল্যবিবাহে রাজি না হয়ে প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা নির্মূলে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের অনুরোধ করেন এবং বাল্যবিবাহের বিষয়ে অবিভাবকদের সতর্ক করেন।
তহমিনা আক্তারের এই সাহসী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



