চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল

‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেদিকে চিন্তা করার সুযোগ হচ্ছে না। একের পর খুন, হত্যা, ধর্ষণসহ প্রতিনিয়ত অপকর্ম চালাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত সময়ে স্বাভাবিক করার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Chattogram
১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল
১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল |নয়া দিগন্ত

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত কেন্দ্র ঘোষিত গণমিছিল-পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূলত বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ দেশ গঠনের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার এক বৈপ্লবিক জাগরণ। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হলেও দেশকে বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ করে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এই আন্দোলনে বিএনপি শরীক দল হলেও সরকার গঠনের পর তারা নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছে। গণভোটের রায়কে তারা আমলে নিচ্ছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি গণবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হচ্ছে। জনগণ আজ বা কাল হোক, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির যে দূরবস্থা শুরু হয়েছে তাতে আমাদের সন্দেহ হয়, তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে কি-না। আওয়ামী লীগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। মানুষের পালস বুঝার চেষ্টা করুন। অন্যথায় এদেশের জনগণ আরেকটি জুলাই আনতে ভুল করবে না।’

অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেদিকে চিন্তা করার সুযোগ হচ্ছে না। একের পর খুন, হত্যা, ধর্ষণসহ প্রতিনিয়ত অপকর্ম চালাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত সময়ে স্বাভাবিক করার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জোবাইরুল আলম মানিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা হুমায়ুন আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা নোমান উদ্দীন, এবি পার্টির জেলা যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জায়েদ হাসান প্রমুখ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপি নেতা জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, ‘জনগণ অধিকার আদায়ে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকে। খুনী হাসিনা মানুষের একের পর এক অধিকার হরণ করেছিল। আজ নতুন করে বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করার স্বপ্ন দেখছে। তারা গণভোটের ৭০ শতাংশ রায়কে অগ্রাহ্য করে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। আমরা আবার জুলাই নিয়ে আসব। খুনী হাসিনার বিচার নিশ্চিত করে জুলাই গণহত্যার রক্তের বদলা নিতে হবে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন স্বৈরাচার হাসিনা শত চেষ্টা করেও দমাতে পারেনি, বিএনপিও পারবে না ইনশাআল্লাহ।’

সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘হাজার হাজার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করছে, জনগণ জুলাই সনদের জন্য এখনো অপেক্ষায় আছে। তাই সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল করিম, জাগপার খোরশেদ আলম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানী, মাওলানা আরিফুর রশিদ, আ ক ম ফরিদুল আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।