সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যায় অংশ নেয় ৫ অস্ত্রধারী

আধিপত্য বিস্তারের জেরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় পাঁচজন অস্ত্রধারী। তিনজন বোরকা পরিহিত এবং দুইজনের মুখে রুমাল মোড়ানো। সবার হাতে ছিল অস্ত্র।

আরফাত বিপ্লব, চট্টগ্রাম ব‍্যুরো

Location :

Raozan
নিহত যুবদল নেতা সেলিম
নিহত যুবদল নেতা সেলিম |সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা সেলিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরমধ্যে তাকে গুলি করে হত্যার মিশনের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় পাঁচজন অস্ত্রধারী। তিনজন বোরকা পরিহিত এবং দুইজনের মুখে রুমাল মোড়ানো। সবার হাতে ছিল অস্ত্র।

স্থানীয় থানার পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈষাণ ভট্টের হাট এলাকায় হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ এটি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দুইজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। দু’জনই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এদের একজনের নাম রায়হান ও অপরজন ধামা ইলিয়াস। বোরকা পরা তিনজনকে শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।’

জানা গেছে, কদলপুরের ঈষাণ ভট্টের হাট এলাকায় সেলিমকে গুলি করে হত্যার পর খুনিরা যে অটোরিকশা ব্যবহার করেছিল সেটা অর্ধকিলোমিটার দূরে হযরত আশরাফ শাহ র.-এর মাজার গেট সংলগ্ন এলাকায় তাদের ছেড়ে দেয়। গেট সংলগ্ন এলাকায় এসে অপর একটি অটোরিকশায় উঠে কমলার টিলা নামক স্থান দিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায় খুনিরা।

মূলত রাউজানের কমলার টিলা হয়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাউখালি উপজেলা ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গহীন অরণ্য। তিন উপজেলা সীমান্তবর্তীর এই নির্জন পাহাড়ে যাওয়ার কোনো সড়কপথ নেই। স্থানীয়দের ধারণা, পায়ে হেঁটে প্রায় ৫/৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায় খুনিরা।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা দৃশ্যটি মূলত হযরত আশরাফ শাহ মাজারের স্থাপন করা ক্যামেরায় ধারণ করা।

গত রোববার দুপুরে রাউজানের কদলপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা সেলিমকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

নিহতের মামা মাস্টার মো: রফিক জানান, সেলিম ঈশান ভট্টের হাট থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ইসলামিয়া নতুনপাড়ায় নিজের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পাঁচজন মুখোশধারী একটি অটোরিকশা থেকে তার ওপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: শাহাজান বলেন, ‘তার মুখে শর্টগানের দুটি গুলি লাগে, একটি গুলি মুখমণ্ডলে আঘাত করে মারাত্মক ক্ষতি করে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিম এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ছিলেন। বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলেও পরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, রাউজানে গত ১৮ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১০টি রাজনৈতিক হত্যা, অর্ধশত বার গোলাগুলি, সংঘর্ষ, মারামারি এবং কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে বিএনপির স্থানীয় দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৫টিরও বেশি।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাউজানে গত ১৮ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১০টি রাজনৈতিক হত্যা, অর্ধশত বার গোলাগুলি, সংঘর্ষ, মারামারি এবং কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে বিএনপির দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৫টিরও বেশি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে রাউজান থানা পুলিশ।