কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে একই পরিবারের চার সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বাহাদিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত একই পরিবারের চারজন হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৫০), তার স্ত্রী সাথী আক্তার (৩৫) এবং তাদের দুই মেয়ে জিনিয়া (১৩) ও জোহা (১০)। তারা কিশোরগঞ্জ শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন। আহত বাকি দুইজনের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের বাসটি দ্রুত গতিতে কিশোরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। বাহাদিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, বাসটি বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল ও ভেতরে উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্সে গান বাজছিল। যার কারণে চালক মনোযোগ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটায়।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। যেহেতু ওই সড়কে বাসের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের একটি সিদ্ধান্ত ছিল, তাই বাসটির গতি অতিরিক্ত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কে একাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির বৈঠকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এই সড়কে যানবাহনের গতি সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


