অস্তিত্ব সংকটে লালমোহন উপজেলা সদর পোস্ট অফিস

তিনজন পোস্টাল অপারেটর থাকার কথা থাকলেও পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী পরিদর্শক পদটিও শূন্য। সঞ্চয়পত্র সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

মাকসুদুর রহমান পারভেজ, লালমোহন (ভোলা)

Location :

Lalmohan
লালমোহন উপজেলা সদর পোস্ট অফিস
লালমোহন উপজেলা সদর পোস্ট অফিস |নয়া দিগন্ত

জনবল ও বিভিন্ন সমস্যায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দ্বীপজেলা ভোলার লালমোহন উপজেলা সদর পোস্ট অফিস।

উপজেলা পোস্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অফিসে তিনজন পোস্টম্যান থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একজন। তিনজন পোস্টাল অপারেটর থাকার কথা থাকলেও পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী পরিদর্শক পদটিও শূন্য। সঞ্চয়পত্র সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ই-নামজারি, ড্রাইভিং লাইসেন্স সার্ভিস সেবা। কিন্তু হারিয়ে যেতে বসেছে কালি, কলম, মন— এ তিনের সমন্বয়ের চিঠি। হারিয়ে যাচ্ছে হলুদ, নীল খামে প্রিয়জনকে কাগজে লেখার সে আবেগ।

শহর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অজপাড়াগাঁয়ে পৌঁছে গেছে প্রযুক্তির সেবা। প্রিয়জনের সাথে বার্তা আদান-প্রদানে চিঠির বদলে সবার ভরসা এখন নতুন নতুন প্রযুক্তির ওপর। ফুরিয়ে গেছে ডাকঘরের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো কিংবা টেলিগ্রাম সেবার প্রয়োজনীয়তা।

মানি অর্ডারের বদলে মোবাইল ফোনে হচ্ছে মানি ট্রান্সফার। অফিসিয়াল চিঠি ও ডকুমেন্ট পাঠাতে ব্যবহার হচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিস।

লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পোস্ট মাস্টার মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘পোস্ট অফিসে কাজ কম নয় কিন্তু সম্মানী ভাতা একেবারেই নগণ্য। ইউনিয়ন পোস্ট মাস্টারদের ভাতা মাত্র চার হাজার ৫০০ টাকা। এ সামান্য টাকায় কিছুই হয় না। কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি দেশের পোস্ট অফিসগুলো যেন সরকারিকরণ করে আমাদের প্রাণের দাবি পূরণ করে।’

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা পোস্ট মাস্টার মো: আলমগীর হোসাইন দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কালের আবর্তনে ব্যক্তিগত চিঠিপত্র বিলুপ্ত হলেও অফিসিয়াল কাগজপত্র, পার্সেল ও বিপি, ই-নামজারি, ড্রাইভিং লাইসেন্স সার্ভিস সেবাসহ পোস্ট অফিসে কাজের চাপ কমেনি। বরং আরো বাড়ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সঞ্চয়পত্র সেবা বন্ধ রয়েছে। এটি চালু হলে জনসাধারণ আরো বেশি উপকৃত হতো।’