বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি দখলের অপচেষ্টা, হয়রানি এবং আদালতের রায় উপেক্ষার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার দুরুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা মো: মাসুদ রানা।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নগরীর একটি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মাসুদ রানা জানান, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তার স্ত্রী আরিফা খাতুন রাজশাহী নগরীর বড়বনগ্রাম মৌজার নওদাপাড়া এলাকার ৩১৫৯ ও ৩১৬০ নম্বর দাগভুক্ত শহীদ জিয়া শিশু পার্কসংলগ্ন টিনশেড বাড়ি ও দোকানসহ ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ (প্রায় দুই কাঠা পাঁচ ছটাক) জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমিটি তার স্ত্রীর নামে নামজারি সম্পন্ন করা হয় এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেও একই মৌজার ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ (প্রায় পাঁচ ছটাক) জমি পৃথকভাবে বৈধভাবে ক্রয় করেছেন বলে জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, জমির দখল বুঝে নিতে গেলে জাকারিয়া আল আমিন নামের এক ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখল গ্রহণে বাধা দেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, তার ক্রয় করা পাঁচ ছটাক জমিরও একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বড়বনগ্রাম মৌজার ওই সম্পত্তি নিয়ে পূর্বে দায়ের করা দলিল বাতিলের মামলা আদালত খারিজ করে দেন এবং পরবর্তীতে করা আপিলেও জাকারিয়া আল আমিন সফল হননি। এছাড়া দলিলে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল সংক্রান্ত অভিযোগও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
মাসুদ রানা বলেন, আদালতের রায়, সরকারি রেকর্ড, নামজারি এবং খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র থাকার পরও তার ও তার স্ত্রীর বৈধ সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি বড়বনগ্রাম মৌজার ৩১৫৯ ও ৩১৬০ নম্বর দাগভুক্ত জমির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করা, আদালতের রায় বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাকারিয়া আল আমিন বলেন, ‘আমি মাসুদ রানার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। তারা ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন।’
আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জমির দলিল বাতিলের জন্য আমি মামলা করেছিলাম। জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব।’



