মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির একদিকে উন্নতি হলেও অন্যদিকে নতুন করে অবনতি দেখা দিয়েছে। ধলাই নদীর পানি কমে যাওয়ায় কমলগঞ্জ উপজেলার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মনু নদীর তীব্র স্রোতে রাজনগরে দুটি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মনু নদীর পানি কমলেও কুলাউড়ার মনু রেলসেতু পয়েন্টে তা এখনও বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। ভবানীপুর ও শেরপুর পয়েন্টে নদী দুটি এখনও বিপৎসীমার যথাক্রমে ১১ ও ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ঘরে বুকসমান পানি ওঠায় পরিবার নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। একামধু গ্রামের ফয়েজ মিয়ার অভিযোগ, মনু নদীর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগ বেড়েছে। পাইকপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, বানের পানিতে তাদের ক্ষেত-খামার তলিয়ে গেছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার বলেন, বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যের বাড়ি বা বাঁধের নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে এক হাজার এবং শুক্রবার দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার নৌকাযোগে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। পরে রাজনগরের একামধু ও উজিরপুর এলাকায় বাঁধ ভেঙে নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
অন্যদিকে উজানের পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। তবে শুক্রবার ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করায় সেখানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই উন্নতির দিকে। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।



