সাবেক ছাত্রদল কর্মী সাদ্দাম হোসেন (৩৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক (পদ স্থগিত) দেলোয়ার হোসেন দীলিপের ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় জনতা। একইসাথে দীলিপকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে গণজমায়েতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, জেলা ট্রাক শ্রমিক মালিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত ভোজন, নিহত সাদ্দাম হোসেনের মা খোদেজা বেগম ও স্ত্রী ফারজানা আক্তার তৃণা।
নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার তৃণা বলেন, ‘আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচারের আশায় রাজপথে নেমেছি। আর কোনো কালক্ষেপণ নয়, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি দীলিপের ফাঁসি চাই।’
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, ‘দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কেউ খুনের মতো জঘন্য অপরাধ করলে দল তার দায় নেবে না। অবিলম্বে দেলোয়ার হোসেন দীলিপকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে তার ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশ থেকে দীলিপের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে লাগাতার ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর রাতে নিহত সাদ্দাম হোসেনের বাবা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্ত মিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপকে প্রধান আসামি করে সদর মডেল থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ১ ডিসেম্বর রাতে র্যাব সদস্যরা রাজধানীর বাসাবো এলাকা থেকে দীলিপ ও তার সহযোগী বাবুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার দীলিপের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ সদর মডেল থানায় অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।



