রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

কোনো হুমকিতে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরবে না

ভিসি দাবি করেন, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার। তার ভাষ্য, একটি সুসংগঠিত চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Location :

Rajshahi
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ডা. জাওয়াদুল হক
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ডা. জাওয়াদুল হক |নয়া দিগন্ত

রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) ভিসি প্রফেসর ডা. জাওয়াদুল হক বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনো হুমকি, চাপ বা অপপ্রচারে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ভিসি।

৯ শতাংশ ঘুষ’ অভিযোগ ভিত্তিহীন
ভিসি দাবি করেন, সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার। তার ভাষ্য, একটি সুসংগঠিত চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা চালাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জেনিথ কর্পোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ দুটি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। “যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রেই অংশ নেয়নি, সেখানে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,” মন্তব্য করেন তিনি।

ভিসির অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পারার ক্ষোভ থেকেই এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জেনিথ কর্পোরেশন’-এর মালিক আতাউর রহমান টিপু টেন্ডার ডাটা শিট (টিডিএস) তার শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করছিলেন, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর)-এর পরিপন্থী। বড় প্রকল্পে ‘স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স’ প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ রাখার বিধান থাকলেও তা ৫০ শতাংশের নিচে নামানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ভিসি আরো বলেন, নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৪ ডিসেম্বর হোয়াটসঅ্যাপ কল, মেসেজ ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান ভিসি।

এছাড়া ‘এম জামাল কোং’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও স্পেসিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ দেয় বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

ভিসির অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে বুধবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে ভিসির অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ’ ও ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

বক্তারা দাবি করেন, রাজশাহী নগরীর সিলিন্দা এলাকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাজশাহী জেলা সভাপতি শাহজাহান আলী বরজাহান, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ক্যাবের রাজশাহী সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান রেজা প্রমুখ।