বগুড়ায় বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। একইসাথে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদন ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। অন্যদিকে সেচের অভাবে বোরো ধানের উৎপাদন কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিইউবো) আওতাধীন নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী (নেসকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেলায় বর্তমানে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ফলে বিদ্যুতের সঙ্কটে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। এছাড়া বিদ্যুৎহীনতার কারণে অসহ্য গরমে বৃদ্ধ ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
শিল্পের শহর বগুড়ায় বড় বড় শিল্প কারখানা ছাড়াও কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কলকারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন কমে গেছে। এতে শিল্পমালিকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় এ অবস্থা চললে অনেক কারখানা মালিক তাদের কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। এতে অনেকের বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের জমিতে এই মুহূর্তে বেশি বেশি পানি দেয়া দরকার। কিন্তু বিদ্যুৎচালিত সেচ মেশিনগুলো বিদ্যুতের অভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছু কিছু এলাকায় বোরো ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলে পানির অভাবে ধানের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হবে। এছাড়া জ্বালানি তেলের সঙ্কটের কারণে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনগুলো দিয়েও চাহিদামতো সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতেও বোরো ফলন ব্যাহত হতে পারে।
নেসকো বগুড়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানান, তার বিভাগে দৈনিক ১৩৫-১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮০-৮৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় অর্ধেক সরবরাহ দিতে গিয়ে ঘনঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) খুরশীদ আলম জানান, তার অধীনে বগুড়া সদর (মহানগরীর বাইরে), কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদিঘি, দুপচাঁচিয়া ও শিবগঞ্জ উপজেলা রয়েছে। এখানে বর্তমানে চাহিদা দৈনিক ১০০-১১০ মেগাওয়াট। কিন্তু গড়ে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেক। ফলে লোডশেডিং দিতে গিয়ে গ্রাহকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো সেচ কাজে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে গ্রামে বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।



