বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও অঞ্চল পরিচালক (রংপুর) মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘একই অধ্যাদেশের আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করলেও ৭০ শতাংশ গণভোট অস্বীকার করা হয়েছে। এভাবে মূলত: জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে অপমান করা হয়েছে। এজন্য একদিন অবশ্যই নিজেরাও চরম অপমানিত হবে। তাদের জন্য তা অপেক্ষা করছে।’
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত এক কর্মী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহরের আল ফারুক অ্যাকাডেমির হলরুমে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের মানব সম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি আব্দুল কাদিম।
সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর শহর আমির শরফুদ্দিন খান।
আব্দুল হালিম আরো বলেন, তারা (বিএনপি) জনগণের সাথে প্রতারণা করে চলেছে। তারা একদিকে বলছেন গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। আবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিরোধিতা করছেন। এমনকি মহান জাতীয় সংসদেই মহা প্রতারণার সাফাই গেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মূলত: জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি না দেয় এজন্যই গণভোট সংক্রান্ত সর্বদলীয় সভা সম্মত হয়ে স্বাক্ষর করছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের আলোকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংস্কারের বিকল্প নাই। আমরা বিরোধী দল জনমতকে সম্মান দিতে গণভোটের রায়কে বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও রাজপথে চেষ্টা চালিয়ে যাবো। জনগণও তাদের রায় অনুযায়ী দেশ গঠনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে এবং বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে ইনশাআল্লাহ। অতীতে যেভাবে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল এক্ষেত্রেও তেমনি হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা দেশ ও জনগণের জন্য ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে রাজনীতি করি। এজন্যই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের উপর নির্যাতনের বহুমাত্রিক স্টিমরোলার চালিয়েছে। বিএনপির উপরও একইভাবে অন্যায় করেছে। আমাদের শত শত নেতাকর্মী শহীদ, হাজার হাজার পঙ্গুত্ব ও লাখ লাখ হামলা মামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেছেন। তবুও আমরা থেমে যাইনি। বরং শেখ হাসিনাই ভারতে পালিয়ে গেছে।
এখনো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অপবাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে হেনস্তা, জেল জুলুম হামলা মামলা চলছে। এক্ষেত্রে জামায়াতের সকল স্তরের জনশক্তিকে অত্যন্ত সতর্কতা ও ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করতে হবে। হুট করেই কোন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না এবং তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়ার চেষ্টা করা যাবে না। বরং পর্যবেক্ষণ করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে নয়, ভালো দিয়ে দিবো। তাহলেই প্রকৃত অপরাধী ধরা খাবে এবং অনেকে ভুল বুঝে আমাদের সাথী হবে।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমিরে জামায়াত ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের জনআকাঙ্খা জনগণই বাস্তবায়ন করবে। আমাদের শুধু জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যেতে হবে। এজন্য জামায়াতের জনশক্তিকে আরো বিচক্ষণতার সাথে সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় দিক নির্দেশনা পালনে আরো গতিশীল হতে হবে।



