শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা দরবেশকান্দি গ্রামে হাফিজ ভুঁইয়া ও রুবেল কাজি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।
সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বাড়ির ২০-২৫টি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার স্লিপে নাম ভুল থাকা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই বিরোধের জের ধরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে স্থানীয় হাফিজ ভূঁইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধর করে রুবেল কাজী ও তার লোকজন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ভোরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় হাফিজ রাঢ়ী, খবির রাঢ়ী, মোখলেছ রাঢ়ী, সুলতান রাঢ়ী, সোহাগ রাঢ়ী, ইলিয়াস রাঢ়ী ও রাজ্জাক বেপারীর বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে চারজনকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সারিকা বেগম অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করায় প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের শারমিন বেগম বলেন, হাফিজ ভূঁইয়া ও তার সমর্থকরাই আগে এলাকায় নাশকতা চালিয়েছে এবং এখন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরো জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।



