সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার, চিকিৎসা চলছে

সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নেয়া হয়েছে। বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং ভেটেরিনারি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে |সংগৃহীত

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে আটকে পড়া একটি বাঘকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

আজ সোমবার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, রোববার বন বিভাগের সহায়তায় শোরকির খালের এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার বনের অভ্যন্তরে পাতানো ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায়, এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম ও বন বিভাগের স্টাফসহ সকলকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

এতে আরো বলা হয়, পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় ওই স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন অধিদফতরের ভেটেরিনারি অফিসারের নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে যায়।

রোববার সকালে ভেটেরিনারি টিমসহ খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে উদ্ধার করার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে এটি কোনো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এ অবস্থায় বাঘটিকে অচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে, তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, আর সেই অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে ভেটেরিনারি অফিসার হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তাকে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

আহত বন্য প্রাণীটিকে উদ্ধারের সময় স্থানীয় উৎসুক জনতার উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে, উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত ও বিলম্বিত হয় এবং সংকটাপন্ন প্রাণীটির জীবন আরো বিপন্ন হয়ে যায়। বহু মানুষ ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বাঘটিকে উদ্ধার করতে গেলে তারা উদ্ধার কর্মীদেরকে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা বন বিভাগের লোকজনের ওপর চড়াও হয় বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, বন বিভাগে চট্টগ্রাম ও গাজীপুর এই দু’টি সাফারি পার্কে মাত্র দু’জন ভেটেরিনারি অফিসার কর্মরত রয়েছেন।

সুন্দরবনের জন্য খুলনা অঞ্চলে বন্যপ্রাণী রেসকিউ সেন্টারে ভেটেরিনারি ডাক্তারের পদটিও শূন্য রয়েছে। এছাড়া, এখানে অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসা কর্মী প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

সূত্র : বাসস