অ্যাডভোকেট হেলাল

জনরায়কে অবমূল্যায়ন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব না

‘প্রায় দুই হাজার শহীদ ও প্রায় ৩০ হাজার আহত জুলাইযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা ফাসির আসামি থেকে ক্ষমতাসীন হয়েছেন। সুতরাং জনগণের পালস বুঝতে না পরলে আবার বিপদ হবে।’

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল
বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ‘জনরায়কে অবমূল্যায়ন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব না। ২১২ আসন পেয়ে জনরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যা করতে চাচ্ছেন তা এদেশে আর হবে না। মনে রাখবেন সংবিধানে গণঅভ্যুত্থান নেই কিন্তু জনগণ সেটা করে দেখিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে বিতর্কিত নির্বাচন করে সংবিধান কাটাছেঁড়া এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংস করে দেশের সামগ্রিক অবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে, ‘সংবিধানে নেই’ এমন কথা বলে গণভোটকে অমূল্যায়ন করছে ক্ষমতাসীন সরকার।’

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল মহানগর জামায়াত অফিসে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, ‘২৪-এর জুলাই বিপ্লব শুধু বাংলাদেশ না; বরং বিশ্বের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব। বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় ছিলেন। তিনি এই বিপ্লবের মাধ্যমে বের হয়েছেন, তারেক রহমান দেশে এসেছেন। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে একমাত্র জুলাই বিপ্লবের কারণে।’

তিনি বলেন, ‘কারা জনগণের পাশে আছে, কারা লুটপাটমুক্ত থাকছে, কারা মানবিক কাজ করছে সেটা জনগণ জানে। সুতরাং কোনো ষড়যন্ত্র করে কেউ পার পাবে না।’

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরীর আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে ও বরিশাল মহানগর কোতোয়ালি উত্তর থানা সেক্রেটারি জাবের হাসানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান ও শামিম কবির।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি উত্তর থানার নায়েবে আমির অধ্যাপক গোলাম গোফরান, কোতোয়ালি থানার কর্মপরিষদ সদস্য বায়জীদ বোস্তামী, মোকছেদুর রহমান, আব্দুস সাত্তার খান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ‘নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশর জনগণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে এবং দেশ স্বাধীন করছে। কিন্তু জনগণ তাদের অধিকার পায়নি। সেজন্য জনগণ জুলাইয়ে আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিল। প্রায় দুই হাজার শহীদ ও প্রায় ৩০ হাজার আহত জুলাইযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা ফাসির আসামি থেকে ক্ষমতাসীন হয়েছেন। সুতরাং জনগণের পালস বুঝতে না পরলে আবার বিপদ হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে না পারলে ইতিহাস কিন্তু ছাড় দিবে না।’