কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার ওপর হামলার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পুলিশ মামলাটি এজাহারভুক্ত করেনি; আবার সন্ত্রাসীদের আটক করতে না পারায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ বলছে, মামলার এজাহারে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় এজাহারভুক্ত করা বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনের এই ধরনের কার্যকলাপে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার দিন রাতে এমপি আমির হামজা নিজেই নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় গিয়ে এজাহার জমা দিয়ে আসেন। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলাটি এজাহারভুক্ত করেনি। এ ব্যাপারে মামলার বাদী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোমিনুর রহমান বিশ্বাস জানান, মামলার কপি শনিবার রাতেই মডেল থানার ওসির নিকট জমা দিয়ে রিসিভ কপি চাইলে উনারা বললেন, এজাহার করার পরই আপনাদের রিসিভ কপি দেয়া হবে।
রোববার বিকেলে এ ব্যাপারে ওসি সাহেবকে ফোন দিলে উনি জানান, মামলাটি রুজু হয়েছে, মামলা নম্বর ২০। কপি পরে দেয়া হবে। কিন্তু সোমবার বিকেল ৩টার দিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক মডেল থানার ওসির নিকট মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে উনি জানান, এখন ফাইনাল হয়নি। মামলাটিতে ভাষাগত ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, ঠিক করে এজাহারভুক্ত করা হবে।
এ ব্যাপারে এনামুল হক জানান, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এমপি আমির হামজার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল, আজ তারই প্রমাণ পাচ্ছি। ৪৮ ঘণ্টা হতে চলল অথচ মামলাটি এখনো এজাহারভুক্ত করা হয়নি। একজন এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনাটি পুলিশ খুব সহজ ও খাটো করে দেখছে। আমরা বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে জামায়াতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
অন্যদিকে শনিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্বপালনে অবহেলার কারণে মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বরকে বদলি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন মামলার বিষয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, মামলার কপিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েছে। বিষয়টি সংশোধন করে এজাহারভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে এমপি আমির হামজা স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে। এদিকে পুলিশের অনীহা ও দায়িত্বহীনতার কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অন্যদিকে গণপরিষদ কুষ্টিয়া জেলা কমিটি রোববার রাতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমপি আমির হামজার ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছে।
গণপরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে। এদের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
গণপরিষদের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।



