গাজীপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আনিসুর রহমান (৩০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আনিস গাজীপুর মহানগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গালগাছ এলাকার আনজত আলীর ছেলে। তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল।
এদিকে, গাজীপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৫১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে এবং তিনজন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
সোমবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে গাজীপুরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৫৪১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ২৯৪ জন এবং ১৩৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার জনে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২৫ জনের মধ্যে পুরুষ ‘এ’ ওয়ার্ডে ৫০ জন, পুরুষ ‘বি’ ওয়ার্ডে ১২ জন, নারী ‘এ’ ওয়ার্ডে ২২ জন, নারী ‘বি’ ওয়ার্ডে ২৫ জন এবং শিশু বিভাগে ১৪ জন রয়েছেন। এছাড়া কেবিন ‘এ’-তে একজন এবং কেবিন ‘বি’-তে একজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ২০২৫ সালে গাজীপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট চার হাজার ৯৮৮ জন। তাদের মধ্যে চার হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন, ৫১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছিল এবং ওই বছর ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই গাজীপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাবে এডিস মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠেছে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, একই সাথে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।’



