বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেছেন, ‘আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ.) অর্ধশতাব্দী ধরে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছেন। হেদায়েতের আলোয় জাতিকে আলোকিত করার চেষ্টা করেছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়ে কোরআনের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়েও তার তাফসিরের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘শীতের রাতে খোলা মাঠে চাদর মুড়ি দিয়ে লাখো মানুষ তার কণ্ঠে কোরআনের তাফসির শুনেছেন। তার আলোচনায় বহু মানুষের জীবনের মোড় ঘুরে গেছে।’
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা নাজিরেরগাঁও শাখা আয়োজিত ‘শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর (রহ.) জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাঠক ফোরামের পরিচালক হাফিজ ফাহাদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক সৈয়দের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন আইমান আল কাবীর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন—পাঠক ফোরামের পৃষ্ঠপোষক মাওলানা হানীফ হোসাইন, খোরশেদ আলম মহসিন, মো: শাহীন আলম, শেখ মো: ইউনুস আলী, মাওলানা আবদাল হোসাইন, সিদ্দিকুর রহমান, আলাউদ্দিন, হাফিজ মেহেদী হাসান, মাওলানা আব্দুল খালিক, হাফিজ ইমরান আহমদ, মাওলানা আমীর হোসাইন, মাওলানা কায়েস আহমদ, মাওলানা হোসাইন আহমদ, তানভীর আহমদ ও হাফিজ সাইদুজ্জামান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার আরো বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা আল্লামা সাঈদীকে তাফসিরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে নিয়ে গিয়েছিল। তার ফাঁসির রায়ের দিন দেশজুড়ে মানুষের ঢল নেমেছিল। প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা এবং তার ওপর জুলুমের প্রতিবাদে অগণিত মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেই প্রতিবাদে দেড় শতাধিক মানুষ শহীদ হন।’
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর আল্লামা সাঈদী কারাবন্দি থেকেছেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। সময়ের পালাবদলে তাকে বন্দি রাখা সেই শাসনেরও অবসান হয়েছে। রয়ে গেছে তার কণ্ঠের স্মৃতি, তাফসির, কর্ম এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।’



