মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশীকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো নিয়ে আইনি বিতর্ক

মার্কিন প্রশাসন যে রিটার্ন বা ফিরে আসা শব্দটি ব্যবহার করছে তা বিভ্রান্তিকর। কারণ জোবায়দুল কখনোই মার্কিন নাগরিক ছিলেন না এবং অভিযোগিত অপরাধ সংঘটনের সময়ও তিনি সশরীরে মালয়েশিয়াতেই অবস্থান করছিলেন।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন |নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশী নাগরিক জোবায়দুল আমিনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের ঘটনাকে ঘিরে আইনি ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

২৮ বছর বয়সী জোবায়দুল আমিন মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত ছিলেন।

গত ৪ মার্চ তাকে যৌন শোষণ ও ব্ল্যাকমেইল (সেক্সটরশন) সংক্রান্ত অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে তাকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে, যা মালয়েশিয়ার আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে তার আইনজীবী হারবিন্দর সিং মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের চেম্বারের কাছে ঘটনার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত, ২০২২ সালে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের এক কিশোরীর করা অভিযোগ থেকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তদন্ত শুরু করে। পরে মালয়েশিয়ার সেরেমবান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জোবায়দুল অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শত শত শিশুকে যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করেছেন। তবে তার আইনজীবীরা এই অভিযোগের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তাদের মতে, মার্কিন প্রশাসন যে রিটার্ন বা ফিরে আসা শব্দটি ব্যবহার করছে তা বিভ্রান্তিকর। কারণ জোবায়দুল কখনোই মার্কিন নাগরিক ছিলেন না এবং অভিযোগিত অপরাধ সংঘটনের সময়ও তিনি সশরীরে মালয়েশিয়াতেই অবস্থান করছিলেন।

তাদের দাবি, প্রায় তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় জামিনে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এরপরও আইনজীবীদের না জানিয়ে হঠাৎ করে তাকে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেয়াকে মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি এখন মালয়েশিয়ার আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, একজন বিদেশি নাগরিককে কীভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণ করা হলো তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।