৬ বছরেও শেষ হয়নি গোলখালী-নলুয়াবাগী সেতুর কাজ

উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের রামনাবাদ নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

হারুন অর রশিদ, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
গোলখালী-নলুয়াবাগী সেতু
গোলখালী-নলুয়াবাগী সেতু |নয়া দিগন্ত

গলাচিপা উপজেলার রামনাবাদ নদীর ওপর নির্মানাধীন গোলখালী-নলুয়াবাগী সেতুর কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। সেতুটির নির্মাণ কাজের জন্য দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এতে হতাশা দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের রামনাবাদ নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৫৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু ছয় বছর সময় পার হলেও সেতুটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি।

সরেজমিনে গেলে দেখা গেছে, সেতুর পিলার ও আংশিক ডেক নির্মাণ হলেও এখনো পুরো অবকাঠামো অসম্পূর্ণ। কিছু অংশে কাজ চলমান থাকলেও তা খুবই ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। দীর্ঘ সূত্রতায় প্রকল্পটি কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছে তারা।

স্থানীয়রা জানায়, কাজের ধীরগতি হওয়ার ফলে গলাচিপার গোলখালী ও নলুয়াবাগী এলাকার সাথে পার্শ্ববর্তী আমতলী ও কলাপাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগের জন্য লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন নৌকায় চড়ে নদী পারাপার হতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। ভূমিসংক্রান্ত কিছু জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে আমতলী ও কলাপাড়া উপজেলার একাংশের মানুষের সাথে গলাচিপা-দশমিনা উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

নলুয়াবাগীর ওষুধ ব্যবসায়ী বাচ্চুসহ আরো অনেকে জানায়, বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত খুবই প্রবল থাকে। তখন নদী পার হওয়া মানে জীবন হাতে নিয়ে চলা। অনেক সময় জরুরি রোগী নিয়ে নদীর ঘাটে এসেও খেয়া নৌকা পাওয়া যায় না। এ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সেতুটির কাজ শেষ হলে কয়েক হাজার মানুষ সুবিধা পাবে।

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভূমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।