কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে গত দুই দিনে পাঁচ শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। দেবিদ্বার পৌর এলাকার হাসপাতাল গেট ও ছোট আলমপুর এলাকায় কুকুরটি তান্ডব চালায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে রয়েছে—জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদের ছেলে নৌফল হাসান (৭), ইলিয়াস হোসেনের ছেলে ইয়াছিন (৬), স্থানীয় বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাবেদ হোসেন (৯), আল আমিনের ছেলে আবির (৫) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোয়ার্টারের সিনিয়র নার্স তাহমিনা আক্তারের ছেলে সানি (৮)। আহতরা সবাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এদিকে আক্রান্ত শিশুদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে জলাতঙ্ক (রেবিস) নিরোধক ভ্যাকসিন না থাকায় বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মাস্টারবাড়ির সামনে নৌফল হাসানকে একটি পাগলা কুকুর অতর্কিতে আক্রমণ করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করে।
স্থানীয়রা কুকুরটিকে ধাওয়া দিলে সেটি পালানোর সময় পথে ইয়াছিন ও জাবেদকে কামড়ে দেয়। এর আগে বুধবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় একই কুকুর আবির ও সানিকে আক্রমণ করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালচে-হালকা ডোরাকাটা রঙের একটি কুকুর গত দুই দিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করছে এবং সুযোগ পেলেই শিশুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: মহিবুস সালাম খান জানান, সরকারিভাবে হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কিছু ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পাগলা কুকুরের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসকের সাথে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই কুকুরটি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’



