নাটোরে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক রোগী নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যাসঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে জরুরি বিভাগ ও অন্যান্য ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের মেঝেতেও অনেক রোগীকে রেখে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেছে।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার ভোরে পেটব্যথা, বমিভাবসহ ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ছেলে, পুত্রবধূ ও মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেন নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার আয়শা আক্তার।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তির পরপরই স্যালাইন দেয়া হয়। তবে চিকিৎসাপত্রে থাকা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।’
সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের ইসলামবাড়ী এলাকার আক্তার হোসেনও একই অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (২৩) ও ছেলে রাফিকে (৫) ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী নার্সরা স্যালাইন দিয়েছেন। তবে ক্যানোলা, অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।
বড়াইগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, তার চাচা সালাম হোসেনকে দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে শুধু স্যালাইন দেয়া হচ্ছে, অন্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডে ৪৭ জন এবং পুরুষ ওয়ার্ডে ৩৯ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৮৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী আসায় ওয়ার্ডগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসা নিয়ে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
ওয়ার্ডে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সারাহ আক্তার ও জেসমিন নাহার বলেন, ‘রোগীর চাপের তুলনায় জনবল কম থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হচ্ছে।’
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘গত দুই দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অধিকাংশ রোগী পানিশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তবে সময়মতো চিকিৎসা দেয়ায় রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।’
নাটোর জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ এইচ এম আনিসুজ্জামান পিয়াস বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। বাইরে খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।’
তিনি বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ভালোভাবে রান্না ও সংরক্ষণ এবং খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেন।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা: মশিউর রহমান বলেন, ‘ডায়রিয়া পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুত আছে। তবে কিছু ওষুধের সঙ্কট রয়েছে।’



