আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহাকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আমিনুল ইসলাম এই ঘোষণা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকসহ সবাইকে প্রশাসনের সাথে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু মহল এখনো পেশিশক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করছে। পেশিশক্তির পরিবর্তে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো অনেক ক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি। সব দল ও প্রার্থীর জন্য সর্বস্তরে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে একটি মহল নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, যা রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।‘
এক প্রশ্নের জবাবে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমার বিরুদ্ধে শতাধিক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় আমাকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। এমনকি আপনজনের জানাজায় অংশ নেয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি। আমাকে ডান্ডাবেড়ি দিয়ে আদালতে তোলা হতো।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে ক্রসফায়ার দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। আমার পরিবারের সদস্যরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমার বড় ছেলেকে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে তুলে নিয়ে এক বছর জেলে রাখা হয়েছিল। তাকে রিমান্ডে নির্যাতন করে দু’টি চোখ নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল। এসব দুঃসহ সময়ের মধ্যেও মহান আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ যে জীবন আমাকে দিয়েছেন, তা আমি উল্লাপাড়াবাসীর কল্যাণে উৎসর্গ করতে চাই।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘যদি নির্বাচন সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে উল্লাপাড়া-সলঙ্গার জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে জামায়াতে ইসলামী সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে সব সময় মানুষের পাশে ছিল। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে তাদেরকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক মানবিক কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’



