মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সোলারচর এলাকায় যৌতুকের ৫ লাখ টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূ ও তার মায়ের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্বামীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে আব্দুল কাইয়ুম হোসেন জানান, তার জেঠাতো বোন মারজান (২২)-এর সাথে ছয় বছর আগে সোলারচরের আমজাদ হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মারজানের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আমজাদ হোসেনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য মারজানের পরিবার ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দেশে ফেরার পর একটি মিশুক কেনার জন্য আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়। এরপরও অভিযুক্তরা অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। দাবি পূরণ না হওয়ায় মারজানকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমজাদ হোসেনসহ আটজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারজানের বাবার বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে মারজানকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে মারধরের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেয়া হয়। মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর মা আসমা বেগমকেও মারধর ও মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এ সময় মারজানের গলা থেকে এক ভরি এবং তার মায়ের গলা থেকে দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌতুকের টাকা না দিলে মা-মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁদের মাথায় সেলাই দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আমজাদ হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’



