দুর্গাপুরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে দেশী ফল, বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা

বিদেশী ফলের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। একই চিত্র দেশী ফলের বাজারেও।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

Location :

Rajshahi
বিভিন্ন ধরনের ফল
বিভিন্ন ধরনের ফল |নয়া দিগন্ত

পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই রাজশাহীর দুর্গাপুর বাজারে দেশী ও বিদেশী সব ধরনের ফলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিদেশী ফলের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। একই চিত্র দেশী ফলের বাজারেও। বিশেষ করে পেয়ারা, বরই ও আনারসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা ফল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

রোববার (১ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি পিস আনারস এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি পেয়ারা ১২০ টাকা, আপেল ও বলসুন্দরী বরই ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া তরমুজ এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ড্রাগন ফল কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিদেশী ফলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। অস্ট্রেলিয়ান ও ভারতীয় আপেল ৩৯০ থেকে ৪২০ টাকা, মাল্টা ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, বেদানা ৫৬০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং আঙুর ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি আড়তগুলো থেকে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

ব্যবসায়ী হাসেম আলী জানান, আড়ত থেকে চড়া দামে ফল কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারে সামান্য লাভে বিক্রি করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। তবে আনসার মিঞা নামে আরেক বিক্রেতার দাবি, অন্যবারের তুলনায় এবার দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে।

এদিকে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

হালিমা আক্তার রিতা নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানে দাম কমলেও আমাদের দেশে ঠিক উল্টো। যে পেয়ারা অন্য সময় ৫০ থেকে ৬০ টাকা থাকে, তা এখন ১০০ টাকার ওপরে।’

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজু বলেন, ‘বাজার মনিটরিং চলছে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। মাহে রমজানে ফলের দাম মানুষের নাগালে রাখতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’