কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সাত মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রাণ হারালেন কৃষকদল নেতা মো: সাদ্দাম হোসেন (৩২)।
শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। তার দুই শিশুসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী গোলাপ মিয়া ও মানিক মিয়ার পরিবারের সাথে সাদ্দামের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ ছিল। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ আঙিনায় ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, আজিজুল নামক এক ব্যক্তি হকিস্টিক দিয়ে সাদ্দামের মাথায় প্রচণ্ড জোরে আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। স্বজনরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাদ্দামকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ও পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালের আইসিইউতে এক মাস রাখা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না।
এ ঘটনায় নিহত সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো: শামসুল হক মিঠু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাদ্দামের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে কাউকে ধরেনি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চাই।’
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত মামলা হয়েছিল এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে ইতোমধ্যে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেয়া হয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।



