জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান সংবিধান বলে মুখে ফেনা তুলছে। অন্যদিকে দলীয় লোক বসিয়ে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে, যা সংবিধানের ৫৯ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এভাবে সুবিধাবাদী অবস্থান নিয়ে দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণ হবে না।’
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) হালিশহর লাকি স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বাতিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবোত্তর সময়ে আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম মহানগরী মেয়রের ক্ষমতায়নের কারণ এখনো রহস্যাবৃত। তারপরও আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাই মেনে নিয়েছিল। কিন্তু বিগত ২২ ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদকাল শেষ হওয়া সত্ত্বেও মেয়র পদ দখলে রাখা গণতান্ত্রিক রীতির সাথে সাংঘর্ষিক।’
‘এভাবে অনির্বাচিত একজন মেয়র একাই কখনো সিটি করপোরেশনের জনসেবার সম্পূর্ণটা আঞ্জাম দিতে পারে না। সেজন্যই পদে পদে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মশার উপদ্রব, তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনসহ ট্রাফিক জ্যাম, বাজার অব্যবস্থাপনা, নালা-নর্দমার দুর্গন্ধ, কিশোর গ্যাং, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা সমস্যায় নগরবাসী আজ জর্জরিত। জলাবদ্ধতা নিরসনের ৩৬ খালের মেগা প্রজেক্টটি এখনো শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে না,’ বলেন তিনি।
দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড জামায়াতের আমির আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এ বি এম সুলাইমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও হালিশহর থানার আমীর ফখরে জাহান সিরাজী প্রমুখ।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন হালিশহর থানা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল হক, থানা অফিস বিভাগীয় দায়িত্বশীল এ টি এম মাকসুদুল মাওলা ও ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ প্রমুখ।



