ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহের বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে কোনো দৃশ্যমান সঙ্কট না থাকলেও হঠাৎ করে মুরগির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে শহরের ঐতিহ্যবাহী মেছুয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পর্যাপ্ত মুরগি থাকা সত্ত্বেও বিক্রেতারা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসছে। সরবরাহ বেশি থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, সজনে ১৯০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা এবং বরবটি ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ভালো মানের লেবু ৭০ টাকা হালি থেকে কমে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, শিম ৩০ টাকা কেজি এবং ফুলকপি ৪০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৮৫ টাকা হয়েছে। সোনালী কক মুরগি ২৯০ টাকা থেকে বেড়ে ৩১০ টাকা এবং সাদা কক মুরগি ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মুরগির কোনো সংকট নেই। তবুও একযোগে দাম বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে।
মুরগি কিনতে আসা তৌহিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, “প্রতিটি দোকানেই প্রচুর মুরগি রয়েছে। কিন্তু সবাই একই দামে বিক্রি করছেন। মনে হচ্ছে বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন।”
আরেক ক্রেতা সদর আলী বলেন, “সবজির দাম কমলেও মুরগির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।”
সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “সরবরাহ বেশি থাকায় আড়ত থেকে কম দামে সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা কমেছে।”
তবে মুরগি বিক্রেতা মানিক মিয়া দাবি করেন, “আমরা আড়ত থেকে যে দামে মুরগি কিনছি, সেই অনুযায়ী বিক্রি করছি। এতে খুব বেশি লাভ থাকে না।”
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, “বাজারে নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”



