দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ক্লাস চলাকালে একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরপরই শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্রুত তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৬৮ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন।
গজারিয়া গ্রামের অভিভাবক জুয়েল রানা বলেন, দুপুরে হঠাৎ ভবনের একটি অংশ বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ভেঙে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পড়ে। সে সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে ভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা দৌড়ে এসে আমাদের সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যাই। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। বারবার জানানোর পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রথম ক্লাস শেষে বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ভেঙে পড়ে। যে বেঞ্চের ওপর অংশটি পড়ে, সেখানে কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, গত সপ্তাহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এর আগেও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আগে থেকেই এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে ক্লাস চালু রাখতে হয়েছে। বুধবার দুপুরে বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি জেনেছি, তবে এতে কেউ আহত হয়নি।
তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্রে এক নম্বর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথেও আলোচনা হয়েছে। দ্রুত পুরনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



