তাড়াশে যাতায়াতের রাস্তায় বন্ধ করল প্রভাবশালী প্রতিবেশী, ২ পরিবার অবরুদ্ধ

ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান মো: জমশেদ আলী মোল্লা বলেন, ‘বেড়া দেয়া রাস্তার কিছু অংশের মালিক আমরাও এবং বহু বছর ধরে আমরা এ পথ দিয়েই যাতায়াত করছি। কিন্তু জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারছি না। বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।’

Location :

Sirajgonj
চলচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় অবরুদ্ধ দুই পরিবারের সদস্যরা
চলচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় অবরুদ্ধ দুই পরিবারের সদস্যরা |নয়া দিগন্ত

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ঈদগাহ মাঠের দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য বিরোধের জেরে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মো: শাহিন সরকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ বেড়া দেয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে প্রাচীর নির্মাণ কাজ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন সরকারের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তার প্রতিবেশী মো: জমশেদ আলী মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেই ঘটনার জেরে বুধবার সকালে শাহিন সরকার তার লোকজন নিয়ে জমশেদ আলীর পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিতে গাছের ঢাল ও নেটের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।

রাস্তায় বেড়া দেয়ায় বুধবার সকাল থেকে ভুক্তভোগী পরিবার দু’টির সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেনি এবং জরুরি গৃহস্থালি কেনাকাটার জন্য কেউ বাইরে যেতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান মো: জমশেদ আলী মোল্লা বলেন, ‘বেড়া দেয়া রাস্তার কিছু অংশের মালিক আমরাও এবং বহু বছর ধরে আমরা এ পথ দিয়েই যাতায়াত করছি। কিন্তু জোরপূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারছি না। বর্তমানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহিন সরকার জানান, জমিটি তার নিজস্ব সম্পত্তি। জমশেদ আলীর যাতায়াতের কারণে তার ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছিল বলে তিনি একপাশে বেড়া দিয়েছেন। যাতায়াতের জন্য অন্য পাশে বিকল্প রাস্তা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবেন।