গোয়ালন্দে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মাটিতে পোঁতা মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

বাতাসে ভেসে আসা দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Location :

Goalanda
গোয়ালন্দে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মাটিতে পোঁতা মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার
গোয়ালন্দে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মাটিতে পোঁতা মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার |নয়া দিগন্ত

গোয়ালন্দ সংবাদদাতা ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বাতাসে ভেসে আসা দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্তবর্তী উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা এলাকা থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করেছে। কি কারণে কে বা কারা তাদের হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল তা জানা সম্ভব হয়নি।

পরে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর কর্নেশন এলাকার লুৎফর সওদাগর গ্রামের আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশু কন্যা সামিয়া আক্তার (৪)।

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদীয়া ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড আনসার মাতব্বরের ডাংগি এবং গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের সীমান্তবর্তী এখলাস মাতুব্বরের কলাবাগান থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার শেষ সীমানা উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যির পাড়ার কালিতলা গ্রামের স্থানীয় হাকিম উল্লাহর পুকুরের পাড় থেকে দুর্গন্ধ আসায় মাঠে কাজ করা কয়েকজন কৃষক এগিয়ে যান। পরে তারা খেয়াল করেন পুকুর পাড়ের মাটিতে পুঁতে রাখা মানুষের পা বের হয়ে আছে।

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে জানালে থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রাশিদুল ইসলাম সহ পুলিশের একটি দল বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে। এ সময় তারা মাটি খুড়ে প্রথমে একটি ৩-৪ বছর বয়সী একটি শিশু কন্যার লাশ উদ্ধার করে। এরপর ৩০-৩২ বছর বয়সী এক নারীর লাশ উদ্ধার করে।

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো: খবির হোসেন জানান, উজানচর ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের পায়ে চলার রাস্তার এক পাশে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্যির পাড়া গ্রামের শেষ সীমানা। বিপরিত পাশে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের আনছারডাঙ্গী গ্রাম। পুকুরটি আনছারডাঙ্গী গ্রামের জনৈক হাকিম উল্লাহর। সীমান্তবর্তী পুকুরের পাশে মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা দুর্গন্ধ পেয়ে গ্রামের লোকজন এগিয়ে যায়। গ্রামের লোকজন বলাবলি করে পুকুর পাড়ে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান মাটি খোড়া অবস্থায় মানুষের পা দেখা যাচ্ছে।

পরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের উপস্থিতিতে মাটি খুড়ে সাড়ে চারটার দিকে প্রথমে একটি শিশু কন্যার লাশ উদ্ধার করে। তারপর এক নারীর লাশ উদ্ধার করে।

ধারণা করা হচ্ছে, মা ও মেয়েকে হত্যার পর এখানে মাটিতে পুতে রাখা হয়েছে। তবে কি কারণে কে বা কারা মা ও তার শিশু কন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুঁতে রাখা হয়েছিল তা জানা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো: রাশিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুড়ে প্রথমে অনুমান ৩ বছর বয়সী একটি শিশু কন্যার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩০-৩২ বছর বয়সী এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে এসেছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সীমানা ফরিদপুরের মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়ে রাজবাড়ী ও ফরিদপুর থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ দুটি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পাঠানো হয়েছে । পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।