কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ইটনা সরকারি কলেজের পুকুর ও জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উপজেলা বিএনপি সভাপতি এস এম কামাল হোসেন ও তার ভাতিজাদের দিকে উঠলেও কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কামাল হোসেন তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলেজের প্রায় এক একর জমি ও পুকুর জোরপূর্বক দখল করে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন, পুকুরে বেষ্টনী নির্মাণ ও স্থাপনা তৈরির জন্য পিলার বসানো হয়েছে। এ কাজে কামাল হোসেনের ভাতিজারা সরাসরি জড়িত এবং এর নেপথ্য কামাল হোসেনের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, আমি বা আমার দলের কোনো নেতাকর্মী কলেজের জমি বা পুকুর দখলের সাথে জড়িত নই। তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, কলেজের কোনো ক্ষতি হোক, তা আমি চাই না। কলেজের এক ইঞ্চি জায়গাও যেন বেআইনিভাবে কেউ দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে আমি সচেষ্ট।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কামাল হোসেনের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং সেই সূত্র ধরেই এই দখল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
জানা গেছে, কামাল হোসেনের বড় ভাইয়ের সাথে কলেজের জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। সম্প্রতি তার ভাতিজারা ওই বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশ দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইটনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মিল্কী, ইটনা সদর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি এম এ ছালেক, সহ-সভাপতি মেজান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার বেপারী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলীউর মিয়া, উপজেলা জাসাসের সভাপতি ইউসুফ কবীর তোতা ও উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুছসহ আরো অনেকে।



