দোয়ারাবাজারে ভাগনের হাতে খালা খুন, অভিযুক্ত গ্রেফতার

রোববার (২৪ মে) বিকেলে চা খাওয়া নিয়ে নানি ফালানি বেগমের (৬০) সাথে অভিযুক্ত নাতি-নাতনি ও তাদের মায়ের বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়ার মাধ্যমে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত
হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে খালা শিল্পী বেগমকে (২৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে ভাগনে সুজন মিয়া (২২)। সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ডুমবন্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্ব থানা পুলিশের একটি টিম রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

অভিযুক্তরা হলেন— একই গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ও নিহত শিল্পী বেগমের ভাগনে সুজন মিয়া (২২), বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী ও নিহতের বড় বোন মোসা: হাছিনা বেগম (৪৮) ও ভাগনি তনিমা আক্তার (১৫)।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আসামিরা ওই গ্রামে নানা মরহুম খোয়াজ আলীর বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। রোববার (২৪ মে) বিকেলে চা খাওয়া নিয়ে নানি ফালানি বেগমের (৬০) সাথে অভিযুক্ত নাতি-নাতনি ও তাদের মায়ের বাগবিতণ্ডা ও ঝগড়ার মাধ্যমে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

নাতি-নাতনি ও মেয়ে কর্তৃক ফালানি বেগমের লাঞ্ছিতের ঘটনা শুনে তার আরেক মেয়ে শিল্পী বেগম তার মাকে স্বামীর বাড়ি জালালপুর গ্রামে নিয়ে যান। পরে সোমবার অন্য আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্তদের জিজ্ঞেস করতে এলে তাদের মধ্যে আবার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়। এ সময় ভাগনে সুজন মিয়া খালা শিল্পি বেগমকে চাকু দিয়ে ডান পাজরে আঘাত করলে গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয়রা আহত শিল্পী বেগম ও ফালানি বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার শিল্পী বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, সোমবার বিকেলে মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ডুমবন্দ গ্রামে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। একইদিন সন্ধ্যায় নিহতের স্বামী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সাথে সাথে অভিযানে নামে পুলিশ। রাতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।