মদন (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনার-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী।
২২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিন থেকে তিনি মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী বিভিন্ন এলাকা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এর আগে স্বামীর আসনে তাহমিনা জামান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের দুজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ার পর স্বামীর জন্য আসনটি ছেড়ে দেন তাহমিনা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মদন পৌর শহরের নিজ গ্রাম বাড়িভাদেড়া ও মদন গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তাহমিনা জামান শ্রাবণী বলেন, সুস্থ এবং সুন্দর পরিবেশে এবার নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ ভালো আছে। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ গুছিয়ে এলাকার জনগণ লুৎফুজ্জামান বাবরকে ধানের শীষে ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। যেখানে যাচ্ছি সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলছি, তাতে মনে হচ্ছে মানুষের মনে লুৎফুজ্জামান বাবর এর জায়গা কমেনি, বরং ১৭ বছর কারা নির্যাতনের পর মানুষ তাকে আরো বেশি আপন করে নিয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী এলাকায় ধানের শীষ মানে বাবর, বাবর মানে ধানের শীষ। এই এলাকার নারী-পুরুষ আবাল-বৃদ্ধ সকলের মুখে মুখে শুধু বাবর আর ধানের শীষ। আমি যেখানেই যাচ্ছি বাবরের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে অবাক হচ্ছি। বাবর এলাকার সকলের প্রিয়জন হিসেবে এখনো তাদের মনে রয়ে গেছেন।
তাহমিনা জামান ভোটারদের বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বাবরকে বিজয়ী করবেন। এলাকার অনেক অসমাপ্ত কাজ তিনি সমাপ্ত করার জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা করে রেখেছেন। তার কাছে এলাকার প্রত্যেকটি পরিবার আপনজন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনাদের আমানত ভোট খানা দিয়ে বিজয়ী করুন এবং আমাদের প্রিয় নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করুন।
উল্লেখ্য, লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি ওই সংসদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে ১/১১ সরকার তাকে গ্রেফতার করে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। সেই নির্বাচনে বাবর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে মৃত্যুদণ্ড সহ বিভিন্ন দণ্ডে দন্ডিত করে।
২৪ সালের ছাত্র জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ছয়টি মামলা থেকে খালাস পেয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বের হন বাবর। ওইদিন কাশিমপুর কারাগারের সামনে লক্ষ্য জনতা জড়ো হন তাকে এক নজর দেখতে। এ দিনটিকে তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ ঐতিহাসিক দিন হিসেবে বিশ্লেষণ করে।



