শিবালয়ে মিরাজ হত্যাকাণ্ড : প্রকৃত ঘটনা আড়ালের অভিযোগ পরিবারের

নিহতের পরিবার ঘটনার দিন শিবালয় থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পরে দুই দিন পর স্থানীয় বালুমহল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কাউছার আলম খান বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Location :

Manikganj
নিহত মিরাজ হোসেন
নিহত মিরাজ হোসেন |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মিরাজ হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ড এখন একটি বহুমাত্রিক অপরাধ অনুসন্ধানের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে সঙ্ঘটিত হত্যার ঘটনাটিকে ঘিরে দায়েরকৃত মামলায় বাদী পরিবর্তন, আসামি নির্ধারণে অসঙ্গতি, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত মিরাজ হোসেন পাবনা সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় বালু ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্বজনরা জানান।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৩ এপ্রিল বিকেলে আলোকদিয়া চরে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পরে ড্রেজারে উঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিরাজ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরিকল্পিতভাবে মিরাজকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার ঘটনার দিনই শিবালয় থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে দুই দিন পর স্থানীয় বালুমহল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কাউছার আলম খান বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

নিহতের ছেলে রুহুল আমিন তারেক অভিযোগ করেন, আমাদের অভিযোগ গ্রহণ না করে পরিকল্পিতভাবে অন্য একজনকে বাদী করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থাকে।

পরিবারের অভিযোগ, লিটন নামে একজন নিহতের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। তাদের দাবি, হত্যার আগে মিরাজকে শিবালয়ে ডেকে আনা এবং আগের অপহরণ ঘটনার সাথে লিটনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া হত্যার আগে মিরাজ হোসেনকে নদীপথে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায়ও লিটনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পাশাপাশি শামিম ফকির নামে একজন স্থানীয়ভাবে বালু ব্যবসাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। মতিন সাধু একইভাবে ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, কাউছার আলম খান মামলার বর্তমান বাদী। যদিও তিনি নিজেই নিহতের পরিবারের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় বাদী হননি বরং প্রভাবের কারণে বাধ্য হয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নিহত মিরাজ প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার টাকা হারে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্রকে চাঁদা প্রদান করতেন। চাঁদা প্রদান বন্ধ করার পর থেকেই তার ওপর হুমকি বৃদ্ধি পায়।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন। তবে, পরিবারের লোকজন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী জানান, বিভিন্নভাবে তদন্ত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বাদী নির্বাচন প্রসঙ্গে পুলিশের দাবি, মামলার বাদী কাউছার আলম খান স্থানীয়ভাবে বালু ব্যবসা সম্পর্কে অবগত এবং তদন্তে সহায়ক হবেন।