প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চরকাউয়া স্বনির্ভর খাল, পরিদর্শনে বরিশাল সিটি প্রশাসক

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চরকাউয়া স্বনির্ভর খাল, পরিদর্শনে বরিশাল সিটি প্রশাসক
প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চরকাউয়া স্বনির্ভর খাল, পরিদর্শনে বরিশাল সিটি প্রশাসক |নয়া দিগন্ত

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তিনি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে খালটির চলমান পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে যে স্বনির্ভর খালগুলো খনন করেছিলেন, তা আজও তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ বহন করে। চরকাউয়ার এই খালটি একসময় এ অঞ্চলের কৃষির প্রাণ সঞ্চারক ছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রাকৃতিক কারণে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার কৃষক পরিবার তাদের জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার যে কার্যক্রম চলছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পানির সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত হলে কৃষকরা আবারো স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।’

তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বপ্রাপ্তদেরকে বলেন, ‘পুনঃখনন কাজ যেন সঠিক পরিকল্পনা ও মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের উপকারে আসে। একইসাথে খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ স্বনির্ভর খালটির মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অর্থায়ন এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত বছর শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলতি বছরেও অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় এলাকার হাজার হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অনেকেই বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হন। তবে পুনঃখনন কাজের অগ্রগতিতে কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ‘খালটির কাজ সম্পন্ন হলে সেচ সঙ্কট অনেকাংশে দূর হবে। আমরা আবার আগের মতো চাষাবাদ করতে পারব। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং আমাদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’