বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং( বিজিই) অনুষদের ১২ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে অনুষদ ভবনের সামনে রেজিস্ট্রেশন ও টি-শার্ট বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও অনুষদ ভবন-২ এর সামনে থেকে একটি গ্র্যান্ড র্যালি বের করা হয়। শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে র্যালিটির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিকৃবি'র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম। র্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
র্যাালি শেষে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে কেক কাটা, ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন, খেলাধুলার পুরস্কার বিতরণ এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের যুগপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানের আহবায়ক সহযোগী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রাশেদ চৌধুরী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) শিক্ষাখাতে উচ্চতর গবেষণা সহায়তা কর্মসূচি মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান জিন বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আবেদ চৌধুরী।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক, বিভিন্ন অনুষদীয় ডিন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক, বিভিন্ন দফতরের পরিচালক, প্রক্টর, বিভিন্ন দফতর প্রধান, অনুষদীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের এক যুগের যাত্রা শিক্ষাগত উৎকর্ষ, গবেষণার অগ্রগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের একটি গৌরবময় উদাহরণ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই অনুষদ আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
তিনি বলেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কল্যাণে অনেক বিষয় আজ সহজ প্রাপ্য হয়েছে। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের ভেরিয়েবল এবং কনজার্ভ রিজিয়নে কি ধরনের মিউটেশন হচ্ছে জেনেটিং ইঞ্জিনিয়ারিং তার দ্বার খুলে দিয়েছে। এজন্য আমাদের বিজ্ঞানের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে সন্নিবেশিত থাকতে হবে। আমাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য গবেষণা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আগামী দিনে উদ্ভাবনী গবেষণা, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সিকৃবি'র ৬ষ্ট অনুষদ হিসেবে যাত্রা শুরু করে বিজিই অনুষদ।
সন্ধ্যায় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বিজিই অনুষদের শিক্ষার্থী এবং 'মেট্রোনোম মিউজিক্যাল ক্লাব'-এর পরিবেশনায় এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন সবাই।



