স্বাধীনতার ঘোষকের নাম ঘিরে উত্তেজনা, দামুড়হুদায় জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি

মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করা নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Damurhuda
স্বাধীনতার ঘোষকের নাম ঘিরে উত্তেজনা, দামুড়হুদায় জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি
স্বাধীনতার ঘোষকের নাম ঘিরে উত্তেজনা, দামুড়হুদায় জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি |নয়া দিগন্ত

মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করা নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকির অভিযোগও উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার নাটুদা ইউনিয়নে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী নাটুদা হাই স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষককে লক্ষ্য করে চড়াও হন এবং তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। এসময় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এ ঘটনায় নাটুদা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শামসুজ্জোহা ও বিএনপি সভাপতির ভাই শামসুলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে বিএনপির এক নেতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেন, যা পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজিত করে তোলে।

দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী ও সেক্রেটারি মো: টিটন বলেন, আমরা কোনো ধরনের সঙ্ঘাত চাইনি। অনুষ্ঠান চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমরা শান্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তারা বলেন, একটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক। আমরা কেবল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের ওপরই উল্টো হুমকি এসেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্যও ভয়ের বিষয়।

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, একটি জাতীয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। স্বাধীনতার ঘোষকের নাম বারবার অনুরোধের পরও উপস্থাপক জামায়াতের কর্মী এড়িয়ে যাওয়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের যথাযথ আমন্ত্রণ ও সম্মান দেখানো হয়নি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, একই দিনে দামুড়হুদা স্টেডিয়াম মাঠের অনুষ্ঠানও ছিল অগোছালো এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাড়ায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুল্লাহ রহমান সাহেল বলেন, নাটুদা এলাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা দুঃখজনক। প্রতি বছরের মতোই সেখানে ফুল দেয়া ও দোয়ার অনুষ্ঠান হচ্ছিল। স্বাধীনতার ঘোষকের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা আপত্তি জানান এবং সেখান থেকেই কিছুটা তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।