রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে মহানগরীর বোয়ালিয়া ক্লাবসংলগ্ন নির্ধারিত স্থানে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে এবং রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় ৮৯ লাখ ৬ হাজার ২৪১ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভূমিমন্ত্রী, রাসিক প্রশাসক ও অতিথিরা বৃক্ষরোপণ করেন।
নির্মাণ শেষে ইনডোর স্টেডিয়ামটিতে বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ইনডোর খেলাধুলার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীর জন্য এটি আনন্দের দিন। আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন মহানগরীর যেসব সরকারি জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজশাহীকে আরো সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধ মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কাজ করা হবে।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শেষ করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, মহানগরীর দখল বা পরিত্যক্ত সরকারি জমি সিটি করপোরেশনের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হলে সেখানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এসব জমিতে প্রবীণদের জন্য পার্ক, নারীদের জন্য ক্লাব ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসনসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাসিক প্রশাসক জানান, মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ২৬টি স্থান খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৬টি স্থানকে খেলাধুলার উপযোগী মাঠে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, রাসিক সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সাহেল মো. নূর-ই-সাঈদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ইমনসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



