‘কোরআন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদের রক্তের বদলা নিতে চাই’

`দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম ও কোরবানির মধ্য দিয়ে শাহাদাতের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকে ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ সম্ভাবনাকে চূড়ান্ত বিজয়ে রূপ দিতে হবে আপনাদের।'

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও

Location :

Thakurgaon
বক্তব্য দিচ্ছেন শিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন
বক্তব্য দিচ্ছেন শিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন |নয়া দিগন্ত

কোরআন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদের রক্তের বদলা নিতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘বিগত ১৬ বছরে আমাদের ওপর অনেক অন্যায়, অত্যাচার, গুম, জেল-জুলুম, হামলা-মামলা করা হয়েছে। আমাদের ভাইদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে বলেছে রক্তের বদলে রক্ত, হত্যার বদলে হত্যা কিন্তু আমরা তা করিনি। অবশ্যই আমাদের ভাইদের শাহাদাতের প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা আমরা নিতে চাই, তবে সেই বদলা হবে দেশকে কোরআনের বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে।‘

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘ইসলাম বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম ও কোরবানির মধ্য দিয়ে শাহাদাতের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকে ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ সম্ভাবনাকে চূড়ান্ত বিজয়ে রূপ দিতে হবে আপনাদের। আপনারা যদি আগামীতে এ বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে না পরেন তাহলে ব্যর্থতা আপনাদের। কারণ যারা শহীদ হয়েছেন তারা পাশ করে গেছেন। তাদের রেখে যাওয়া কাজকে আপনাদেরই সম্পন্ন করতে হবে।’

ছাত্রশিবিরের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছে। প্রতিটি প্রান্তরের মানুষের মুখে একটাই কথা, সব দল দেখা শেষ, জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ। নীরব ভোট বিপ্লব ঘটাতে আগামীর সময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে এবং সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর আমরা অনেক জুলুমের শিকার হয়েছি। ৫ আগস্টের পর আল্লাহ তার পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের বিজয় দান করেছেন। আমাদের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছি, প্রতীক ফিরে পেয়েছি, এ টি এম আজহার ভাই মুক্ত হয়েছেন। তার মামলার রায়ের মাধ্যমে শুধু তিনি মুক্ত হননি, সারা বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। অতীতের মামলাগুলোর রায় ছিল ন্যায়ভ্রষ্ট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত, সেটি প্রমাণ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামীতে কেউ যেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিতে না পারে সে লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। যেখানে অন্যায় হবে ধৈর্য ধারণ করবেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, প্রতিরোধে কাজ না হলে সেখানে লড়াই চলবে। লড়াইয়ের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’

এ সময় অনুষ্ঠানে রুহিয়া থানা আমির আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোস্তাফিজুরের সঞ্চালনায় বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।