অমৌসুমে ছাদে ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে সফল কলাপাড়ার সেলিম

বর্তমান তরমুজ শেষ হলে সামনে আরো বড় আকারে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান কৃষক সেলিম গাজী।

হুমায়ুন কবীর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
ছাদে ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ
ছাদে ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ |নয়া দিগন্ত

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটায় সমুদ্রতীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বেড়েছে ছাদ কৃষি ও সেই সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে তরমুজের চাষ। আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী। আর সেখানে অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের কালো রঙের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো: সেলিম গাজী।

অসময়ে থোকায় থোকায় মাচায় মাচায় ঝুলছে কালো রঙয়ের তরমুজ। ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। শখের বশে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন সেলিম। সেই তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসুক জনতা। তার সাফল্য দেখে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্যরাও।

কথা হয় কৃষক সেলিম গাজীর সাথে। তার তরমুজ চাষ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছাদে বস্তায় মাটি ও গরুর গোবর দিয়ে সার তৈরি করে তা দিয়ে প্রথমে পলিথিনে তরমুজে বীজ চারা করি। এরকম ৫০টি থানা চারা ছাদে রোপন করি। প্রথম দিকে বৃষ্টিতে চারা নষ্ট হয়ে যায়। ২৫টি থানা চারা ভাল ছিল। তাতেই ৪০ পিছ তরমুজ হয়েছে।’

তরমুজ বিক্রির টাকা তার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদ্ধতিটি তৈরিতে শুরুতে একসাথে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তী সময়ে খরচ হয় খুবই কম। এ ছাড়া আগাছা হয় না বলে পরিষ্কারের কোনো ঝামেলা নেই। দফায় দফায় সার দেয়ার ঝামেলাও নেই।’

কৃষক সেলিম গাজীর ভাষ্য মতে, অনলাইনের মাধ্যমে বীজ ক্রয় করে জৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকে তিনি চারা রোপন করেন। ইউটিউবের মাধ্যমে তরমুজ চাষের বিস্তারিত এবং সার ও ওষুধ দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ পান। এরপর প্রায় সাত হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজ, শসা, করলা, লাউ ছাদে চাষ করেন। বীজের চারা গজালে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচায় চারা তুলে দেন। এভাবেই তিনি খেত প্রস্তুত করেন।

বর্তমান তরমুজ শেষ হলে সামনে ৫০ থানা জিওব্যাগের মাধ্যমে আরো বড় আকারে তরমুজ চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

ধুলাসার ইউনিয়নে নতুনপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে একটি ছাদে চার আকৃতির মাচার ওপরে সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি তরমুজকে জাল দিয়ে ঝোলানো হয়েছে। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে প্রায় ২৫ থানা গাছে ঝুলছে কালো রঙের তরমুজ।

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস গাজী বলেন, ‘সেলিম গাজী একজন আদর্শ কৃষক। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি, নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েছেন।’

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মালচিং পদ্ধতি তরমুজ চাষাবাদ করা ভালো। আর তরমুজ একটি লাভজনক ফসল।’