লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত বাংলাদেশী নারী শ্রমিক দিপালি খাতুনের লাশ দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়দ ইসলাম। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সার্বজনীন হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলায় লেবাননে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিক দিপালি খাতুনও রয়েছেন। ইতোমধ্যে তার পরিবার, বিশেষ করে বোনের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে লেবাননে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় স্বাভাবিক বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে লাশ দেশে আনা সম্ভব না হলেও দ্রুততম সময়ে তা ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লেবাননে বাংলাদেশ মিশন একযোগে কাজ করছে।’
প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের নিরাপদ রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেককে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের ফেরাতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশেষ ব্যবস্থায় চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কিছু বাংলাদেশীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারীসহ মোট আটজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত হন রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিপালি খাতুন।
নিহত দিপালি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। দুই বছর আগে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।



