রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৯ কোটি টাকা। এ সময় ২৯ জনকে গ্রেফতার করে বিজিবি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী সিগন্যালস।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কোনো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালান বন্ধে বিজিবি বদ্ধপরিকর। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে বিজিবি।
কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, চলতি বছরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১৩টি ব্যাটালিয়নের অভিযানে দেশী-বিদেশি অস্ত্র, এসএমজি, পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৯ কোটি টাকা এবং অভিযানে ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে চলতি বছরে বিভিন্ন অভিযানে দু’টি দেশীয় রাইফেল, দু’টি ১২ বোর পিস্তল, একটি ১২ বোর শর্ট গান, একটি ৯ এমএম পিস্তল (যুক্তরাষ্ট্র), একটি ৮ এম এম পিস্তল (ভারতীয়), ৫০০ গ্রাম গান পাউডার, একটি এক নলা দেশীয় বন্দুক, একটি এসএমজি (এম-৪, এ-১), দু’টি ম্যাগাজিন ও ৫০০ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে বিজিবি সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হয়েও বিজিবি দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় অসহায় ও বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই ৪১ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ফারহাত, ক্যাপ্টেন আশরাফ, সহকারী পরিচালক উপেন্দ্র নাথ হালদার।
বিজিবি জানায়, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১১০ বিজিবি সদস্য শহীদ হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন অভিযানে বিপুল মাদকসহ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বিজিবি। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাহিনীটি।



