সিলেটে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১০ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দু’জন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, নতুন শনাক্ত ১০ রোগীর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চারজন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ২৪৮ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৪৭ জন, সুনামগঞ্জে ৫৬ জন, হবিগঞ্জে ১১১ জন ও মৌলভীবাজারে ২৪ জন। এছাড়া অন্য জেলা থেকে এসে চিকিৎসা নেয়া ১০ জন রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল হাসপাতালে একজন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে তিনজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে একজন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ছয়জন ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে একজন ভর্তি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৩৮ জন। ওই দিন জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা কৃষ্ণ দাস (৪৫) ডেঙ্গুতে মারা যান। এর আগে গত ২ আগস্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফিয়া খানম (৫৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। চলতি মৌসুমে সিলেট বিভাগে এই দু’জনই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার বংশবিস্তারের আবাসস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



